আপনার যৌন চাহিদা কি লাগাম ছাড়া? মানসিক ব্যধি নয়তো? জেনে নিন

স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন স্ত্রী। কখনও পরিচিত, কখনও বা অপরিচিত পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছেন স্ত্রী। ঘোর কাটতেই আবার এই সব সম্পর্কের কথা স্বামীর কাছে কুবুল করছেন ওই যুবতী। জানা গেছে ওই যুবতী ‘নিমফোম্যানিয়াক ডিজিজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশন’-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাস খানেকের চিকিত্সায় আপাতত সুস্থ ওই যুবতী।

কী এই নিমফোম্যানিয়া? নিমফোম্যানিয়া হল অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক কামাসক্তি। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটির নাম নিমফোম্যানিয়া আর পুরুষদের ক্ষেত্রে এ রোগের নাম স্যাটেরিয়াসিস। অস্বাভাবিক মাত্রায় শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য নিমফোম্যানিয়া বা স্যাটেরিয়াসিসে আক্রান্তরা একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কখনও একের পর এক সম্পর্কে, কখনও আবার একই সঙ্গে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা।

নিমফোম্যানিয়া হল অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক কামাসক্তি, ছবি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত
অনেক সময় এই শারীরিক চাহিদা বা তাকে পূরণের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন রকমের মাদকও সেবন করেন তাঁরা। অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক এই কামাসক্তি সমাজের কাছে ‘ব্যভিচার’ বা ‘চারিত্রিক দোষ’ বলে বিবেচিত হলেও মনস্তত্ত্ববিদ বা মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি একটি মানসিক ব্যধি, নাম নিমফোম্যানিয়া বা স্যাটেরিয়াসিস।

মার্কিন মনরোগ বিশেষজ্ঞ টিমোথি জে লেগ-এর একটি গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৩ কোটি মানুষ নিমফোম্যানিয়া বা স্যাটেরিয়াসিসে আক্রান্ত। কোনও ব্যক্তি নিমফোম্যানিয়া বা স্যাটেরিয়াসিসে আক্রান্ত হলে তা কী ভাবে সনাক্ত করা যাবে, সে বিষয়ে আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন (American Psychological Association)-এর গবেষকরা এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। কেন এই রোগ মানুষের মনে বাসা বাঁধে আর অস্বাভাবিক বা বিকৃত যৌন আসক্তি তৈরি করে সে সম্পর্কেও তেমন কোনও কারণ নির্দিষ্ট করতে পারেননি তাঁরা।

নিমফোম্যানিয়া বা স্যাটেরিয়াসিসের লক্ষণ:

১) নিয়মিত ঘন ঘন হস্তমৈথুন,

২) একাধিক যৌন সম্পর্ক, একাধিক যৌনসঙ্গী বা শুধুমাত্র যৌন বাসনা চরিতার্থ করতে সামায়িক ভাবে কোনও সম্পর্কে জড়ানো,

৩) পর্নোগ্রাফির প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি,

৪) অসুরক্ষিত এবং উদ্দাম যৌনজীবনের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ,

৫) সাইবার সেক্স, ফোন সেক্স বা ভিডিয়ো কনফারেন্সে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া,

৬) অশ্লীলভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে অনাবৃত করার ইচ্ছা,

৭) অন্যকে অনাবৃত অবস্থায় দেখার বা যৌনতায় লিপ্ত হতে দেখার ইচ্ছা ইত্যাদি।

এর সঙ্গেই বেশির ভাগ সময় অপরাধবোধ কাজ করে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি বেশির ভাগ সময় উদ্বিগ্ন, অন্যমনস্ক বা অবসাদগ্রস্ত থাকেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *