‘সেক্স পজিটিভিটি’ নিয়ে সঠিক ধারণাই তৈরি করতে পারে সুস্থ সম্পর্ক, সহজেই দূর করুন যৌনতা নিয়ে জড়তা

যৌনতা নিয়ে জড়তা কমবেশি আমাদের সকলের মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায় একটা বয়স পর্যন্ত। তবে বয়ঃসন্ধির পরেও তা থেকে গেলে আমাদের যৌবনে তার ছাপ ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এগারো-বারো বছর বয়সের পর থেকেই ছেলে-মেয়ে সবারই যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে জানা দরকার৷ এই সময়টা বয়ঃসন্ধিকাল, অর্থাৎ কিশোর-কিশোরী থেকে নারী ও পুরুষ হয়ে ওঠার সময়৷ কিন্তু পারিবারিক কারণে হোক বা বন্ধু মহলের কারণে হোক সিংহভাগ যুবক-যুবতিরই এই বিষয়ে কথা বলতে জড়তা কাজ করে। আর সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন একটা বয়সের পর আমাদের সকলের মধ্যে ‘সেক্স পজিটিভিটি’ (Sex Positivity) দরকার।
তবে এই ক্ষেত্রে মনে রাখা ভালো যৌনতার প্রতি একটি সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি রাখার নামই হল ‘সেক্স পজিটিভিটি’। ইন্টারনেটের বাড়বাড়ন্তের সাথে সাথে অনেকেই ভাবেন, সেক্স পজেটিভিটি-র অর্থ সর্বদা যৌনতার আলোচনা করা বা যৌন মিলনের কথা প্রচার করা। কিন্তু তা আদপে ঠিক নয়। সহজ কথায় বলতে গেলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি পর্যাপ্ত সম্ভ্রম শ্রদ্ধা বজায় রেখে ইতিবাচক ভঙ্গিতে যৌন স্বাস্থ্যের আলোচনা, যৌন জীবন সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা বা কারও যৌন জীবনে সমস্যা তৈরি হলে সংবেদনশীলতার সঙ্গে সেটি শোনা ও সমাধানের চেষ্টা করা ইত্যাদিই আসলে ‘সেক্স পজিটিভিটি’। কিন্তু আদতে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়শই এই জিনিস আমরা হারিয়ে ফেলি। তারফলে সেক্স সংক্রান্ত সমস্যার সঠিক সমাধানের রাস্তা আমাদের সামনে কখনওই খোলে না। বাড়তে থাকে প্রাত্যহিক জীবনের জটিলতা। তবে ভারতে যৌন স্বাস্থ্যের বিষয়টি এমনই যে বেশিরভাগই এই বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা পান। বা বলা ভালো, এ’দেশে পরিবারের সামনে এই বিষয়ে আলোচনা করা একরকম নিষিদ্ধ। আর এখানেই হয়ে যায় মূল সমস্যা।